#728

Breaking News

লটারি বাদ, ফিরছে ভর্তি যুদ্ধ: শিশুদের ওপর চাপ ও কোচিং বাড়ার শঙ্কা

 




লটারি বাদ, ফিরছে ভর্তি যুদ্ধ: শিশুদের ওপর চাপ ও কোচিং বাড়ার শঙ্কা

বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর ধরে চালু থাকা লটারি পদ্ধতি বাতিল করে আবার ভর্তি পরীক্ষায় ফেরার আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। যদি সত্যিই ভর্তি পরীক্ষা চালু হয়, তাহলে আবারও শুরু হতে পারে সেই পুরোনো “ভর্তি যুদ্ধ”, যা শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

কেন চালু হয়েছিল লটারি পদ্ধতি

করোনাভাইরাস মহামারির সময় প্রথমবারের মতো স্কুল ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানো এবং কোচিং নির্ভরতা বন্ধ করা।

লটারি পদ্ধতিতে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটার লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হতো। এতে অনেক অভিভাবক সন্তুষ্ট ছিলেন কারণ এতে ছোট শিশুদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ পড়ত না।

আবার কেন ফিরতে পারে ভর্তি পরীক্ষা

সম্প্রতি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা হচ্ছে যে লটারি পদ্ধতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। অনেক অভিভাবক মনে করেন, মেধার মূল্যায়নের জন্য ভর্তি পরীক্ষা থাকা উচিত।

এই কারণেই আবার ভর্তি পরীক্ষায় ফেরার বিষয়ে ভাবছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

শিশুদের ওপর বাড়তে পারে মানসিক চাপ

যদি আবার ভর্তি পরীক্ষা চালু হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে ছোট শিশুদের ওপর। প্রথম শ্রেণি বা প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেক সময় দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করতে হয়।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট বয়সে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা শিশুদের মানসিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক শিশুর মধ্যে ভয়, উদ্বেগ এবং আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

বাড়তে পারে কোচিং নির্ভরতা

ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরতা আবারও বাড়তে পারে। অতীতে দেখা গেছে, ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়ার আশায় অনেক অভিভাবক ছোট শিশুদের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ভর্তি করাতেন।

এর ফলে শুধু শিশুদের ওপর পড়াশোনার চাপই বাড়ে না, অভিভাবকদের ওপরও আর্থিক চাপ তৈরি হয়। অনেক পরিবারকে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হয়।

অভিভাবকদের মতামত

অনেক অভিভাবক মনে করেন, লটারি পদ্ধতি শিশুদের জন্য অনেক বেশি মানসিক স্বস্তির ছিল। এতে পড়াশোনার চাপ কম ছিল এবং শিশুদের শৈশব কিছুটা স্বাভাবিক থাকত।

তবে অন্যদিকে কিছু অভিভাবক মনে করেন, লটারি পদ্ধতিতে মেধার মূল্যায়ন হয় না। তারা চান ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাক।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভর্তি পদ্ধতি যাই হোক না কেন, সেটি এমন হওয়া উচিত যাতে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।

তারা আরও বলেন, যদি ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হয় তাহলে সেটি শিশুদের বয়স ও মানসিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সহজ ও চাপমুক্তভাবে নেওয়া উচিত।

ভবিষ্যতে কী হতে পারে

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে যদি ভর্তি পরীক্ষা আবার চালু হয়, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সরকার ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করতে হবে যাতে মেধার মূল্যায়ন হয়, আবার শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপও না পড়ে।

No comments