তরুণদের মধ্যে বাড়ছে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি: কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
কেন কম বয়সীরা কোলন ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন? অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, প্রসেসড ফুড এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব কীভাবে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, তা জানুন এই প্রতিবেদনে।
মূল কন্টেন্ট (Main Content):
ক্যান্সার গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক দশকে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে কোলন বা মলাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে একক কোনো কারণ নেই, বরং একাধিক জীবনযাত্রাগত এবং পরিবেশগত কারণ দায়ী। নিচে এর প্রধান কারণগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও প্রসেসড ফুড
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কোলন ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় খাদ্যাভ্যাসকে। বর্তমান যুগে ফাস্টফুড, প্রসেসড মিট (যেমন: সসেজ, নাগেটস, সালামি) এবং অতিরিক্ত লাল মাংস (Red Meat) খাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। এই খাবারগুলোতে থাকা প্রিজারভেটিভ এবং উচ্চমাত্রার চর্বি অন্ত্রের কোষের ক্ষতি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
২. আঁশজাতীয় খাবারের অভাব
খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি এবং ফলমূলের অভাব কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফাইবার বা আঁশজাতীয় খাবার হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে এবং অন্ত্র থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য বের করে দিতে সাহায্য করে। তরুণরা যখন আঁশহীন রিফাইন কার্বোহাইড্রেট (যেমন: সাদা রুটি, পাস্তা, চিনি) বেশি খায়, তখন তাদের কোলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৩. কায়িক পরিশ্রমের অভাব ও স্থূলতা
অফিসের দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা এবং অবসর সময়ে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে ব্যস্ত থাকার ফলে শারীরিক পরিশ্রম একদমই কমে গেছে। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা শরীরে প্রদাহ (Inflammation) তৈরি করে, যা ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অলস জীবনযাপনকারী তরুণদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি।
৪. দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও অন্ত্রের সমস্যা
অনেকের ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক বা আলসারেটিভ কোলাইটিস (Ulcerative Colitis) কিংবা ক্রোনস ডিজিজের মতো সমস্যা থাকে। এগুলোকে অবহেলা করলে বা সঠিক চিকিৎসা না করালে কোলনের দেয়ালে পরিবর্তন আসে, যা পরবর্তীতে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে পরিণত হতে পারে।
৫. পরিবেশগত বিষক্রিয়া ও তামাকজাত দ্রব্য
বায়ুদূষণ, খাদ্যে ভেজাল এবং রাসায়নিকের উপস্থিতি শরীরের ডিএনএ গঠনে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এছাড়া ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান কোলন ক্যান্সারের সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করে। অল্প বয়স থেকে যারা এসবে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, তাদের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।
৬. জেনেটিক বা বংশগত কারণ
যদিও এটি সব ক্ষেত্রে ঘটে না, তবে যাদের পরিবারে কোলন ক্যান্সারের ইতিহাস আছে, তাদের অল্প বয়সে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একে 'লিঞ্চ সিনড্রোম' (Lynch Syndrome) বলা হয়।
প্রতিরোধে করণীয়: জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
অল্প বয়সে কোলন ক্যান্সার থেকে বাঁচতে হলে কিছু সতর্কতা জরুরি:
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন।
রেড মিট এবং প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম বা হাঁটাচলা করুন।
শরীরে পানি বা হাইড্রেশনের মাত্রা ঠিক রাখুন।
পেটের কোনো সমস্যা (যেমন: দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন) দেখা দিলে সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

No comments