হাম উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু: উদ্বেগ বাড়ছে, সতর্ক থাকার আহ্বান
বাংলাদেশে হাম (Measles) রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা অভিভাবক ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা গেলেও টিকা না নেওয়া যেকোনো বয়সের মানুষ হাম আক্রান্ত হতে পারেন। রোগটির সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অনেক সময় সাধারণ সর্দি-জ্বর ভেবে অবহেলা করা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে রোগটি গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব কারণেই হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো স্বাস্থ্যখাতে নতুন করে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসকরা অভিভাবকদের শিশুদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কোনো শিশুর দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা (MR) টিকা নিশ্চিত করতে হবে। টিকার মাধ্যমে শুধু একটি শিশুই নয়, পুরো সমাজকেই সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্কুল, মাদ্রাসা ও জনসমাগমস্থলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা গ্রহণের হার বাড়ানো এবং দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে হামের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা জরুরি। শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এবং সময়মতো টিকা প্রদান হাম প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

No comments